হিন্দুদের জমির ধান কেটে নিলো বিএনপি নেতা
বাংলাদেশে আবারও উঠে এসেছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ। দিনাজপুরের একটি ইউনিয়নে স্থানীয় এক হিন্দু পরিবারের পৈতৃক জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে – এলাকার প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম নাগরিক টিভি।
প্রতিবেদনে পরিবারটির দাবি করেছেন, তাদের পৈতৃক জমি দখল করবার চেষ্টা করছে স্থানীয় বিএনপির নেতা ও তার দলের অনুসারিরা। তারা রাতে এসে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন। শেখ হাসিন যাবার পরেই মুলত বিএনপি আমাদের এলাকালায় দখলদারিতা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে, যারা দুর্বল ও সংখ্যালগু তাদের ওপর জুলুম করছে। আমাদের জমি জায়গা কেড়ে নেবার চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে, আমাদের বাংলাদেশ ছেড়ে, ভারতে চলে যাবার জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা বলছে, তোরা হিন্দু তোদের বাংলাদেশে কি? তোরা ভারতে চলে যা। আর আমাদের ভারতে তাড়িয়ে দিয়ে আমাদের জমিজায়গা অর্থ সম্পদ দখল করতে চাইছে তারা।
কিন্তু আমরা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশেই থাকবো। আমরা ভারতে কেন যাবো? কিন্তু তারা যেভাবে আমাদের ওপর জুলুম করছে। তা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের ভারতে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। তারা যদি আমাদের মেরেও ফেলারও চেষ্টা করে, তারপরেও কেউ ঠেকাতে পর্যন্ত আসবে না।
তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের দুইটি গরু আছে। সেই দুইটা গরু রাতে এসে নিয়ে যাবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয় পেয়ে আমরা গরুগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছি। আমরা স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই।

কিন্তু তারপরে হিন্দু পরিবারটি, যা দাবি করে, তা দেখে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। হিন্দু পরিবারের দাবি, তাদের জমিতে চাষকৃত পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গিয়েছে বিএনপির লোকজন।
তারা অস্ত্র হাতে মহরা দিয়ে এই কাজটি করেছে। তাই ভয়তে আমরা সামনে যেতে পারিনি।
যদি আমরা ঠেকাতে যেতাম, তাহলে হয়তো আমাদের মেরেই ফেলতো। তারা আমাদের জমিজায়গা দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশে আমাদের থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

এই হিন্দু পরিবারের দাবি, স্থানীয় কেউ, তাদের সমস্যার সমাধান করতে ভয় পাচ্ছে। তাই আমরা সরকারের কাছে এই নির্যাতনের বিচার চাই। আমরা প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের সাথে ঘটে চলা অন্যায়ের বিচার করুন।
তা নাহলে হয়তো শেষ পর্যন্ত আমাদের ভারতে পালিয়ে যেতে হব৷
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের টিভি ভিত্তিক গণমাধ্যম, নাগরিক টিভি তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পরিবারটি মামলা করেছেন
হয়তোবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। যা এখনও স্পষ্ট নয়। হতে পারে টাকা পয়সা ধারদেনা বা অন্য কিছু থাকতে পারে। এমনকি এমনও হতে পারে বিএনপির, তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে?
কারণ এটিই প্রথম নয়, এর আগে ২০০২ সালের দিকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় অসহায় গরিব অথবা সংখ্যালগুদের সম্পদ জোর করে দখল করেছে তারা। আপনারা বর্তমানেও খেয়াল করবেন, আগের হিন্দুদের পুরাতন বাড়িতে বর্তমানে বড়লোক মুসলিমেরা থাকেন। আর তারা বেশিরভাগই বিএনপির লোকজন।

তারা হিন্দুদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে তাদের ভারতে পাঠিয়ে, জমি জায়গা দখল করে নিয়েছেন। আর তাদের এ-সব অবৈধ সম্পদের জন্য, তারা আজ বড়লোক বা ধনী শ্রেণিরমানুষ।
বর্তমানে ভারতে ঠিক এমনই হচ্ছে। ভারতের মুসলমানদের জমিজায়গা কেড়ে নিয়ে তাদের ভিটামাটি ছাড়া করছে ভারতের হিন্দুরা। আর এসব দখল কৃত জায়গার বেশিরভাগই প্রভাবশালী হিন্দুদের আন্ডারে থাকছে । কিন্তু কিন্তু ভারতে যেভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হয় তার তুলনায় বাংলাদেশে কিছুই হয়না। কিন্তু যতটুকুই হয়, হচ্ছে তো।
কোনোভাবেই জোর করে, অন্যধর্মের মানুষের জমি জায়গা দখল করে নেওয়া উচিত নয় এমনকি কোনো ধর্মেই এসবের অনুমতি দেয়না। বিশেষ করে ইসলামে তো কোনোভাবেই দেয়না অন্য ধর্মের মানুষের জমিজায়গা, অর্থ-সম্পদ দখল করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
Muslim Newspaper – মুসলিমের কথা বলে।





