আল্লাহকে অপমান ! তবু কেন সমর্থন পাচ্ছে বাউল সরকার
আল্লাহকে অপমান ! তবু কেন সমর্থন পাচ্ছে বাউল সরকার ? আল্লাহর মুখ নাকি পুক (পুঙা)। তিনি এক মুখে কত রকম কথা বলবেন। মানুষ এক মুখে দুই রকম কথা বললে তাকে ভন্ড বলে। কিন্তু আল্লাহ তো এক মুখে চার রকম কথা বলছে। তাহলে তিনি কি? এইসলাম সম্পর্কে, আল্লাহর নামে সরাসরি কটুক্তি করেছেন বাউল আবুল সরকার।
কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের মিডিয়া, বাংলাদেশের তথাকথিত নাস্তিক, এমনকি সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত বাউলদের হয়ে কথা বলছে। বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাস্তা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন সব জায়গায় তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছে।
স্বয়ং আল্লাহ নামে এমন কটুকথা বলার পরেও? কেন বাংলাদেশের মিডিয়া বাউলদের পক্ষ হয়ে কথা বলছে। কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মুসলিম ছাত্র বাউলদের পক্ষে হয়ে কথা বলছে। কেন বাংলাদেশের সুশীল সেজে থাকা ব্যক্তিবর্গ বাউলদের পক্ষে কথা বলছে। তারা কি মুসলিম নই। খেয়াল করে দেখা যায় তারাও মুসলিম। তারাও নামের আগে মুহাম্মদ, আলী, হুসাইন দিয়েছে। তারাও নিজেকে মুসলিম দাবি করে।

কিন্তু মহান আল্লাহর নামে যখন কটুক্তি হয়। তখন তারা মুসলিম হয়েও চুপ। কেন আল্লাহ কি তাদের নায়? নাকি তারা আল্লাহকে বিশ্বাসই করে না? স্বয়ং আল্লাহকে অপমান করা, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৬ কোটি মুসলমানের অপমান হবার কথা । নাকি দাড়ি টুপি পরা, হুজুর শ্রেণির মানুষেরাই ইসলামের ঠিকাদার নিয়ে রেখেছেন। যে সব সময় তারাই প্রতিবাদ করে। তাহলে আমরা কি?
আজ নবির নামে কটুক্তি করলে, এই মাদরাসা মার্কা ছাত্ররা, হুজুর শ্রেণির মানুষেরা প্রতিবাদ করে। আল্লাহর নামে কটুক্তি করলে হুজুর শ্রেণির মানুষেরা প্রতিবাদ করে। কেন আমরা কি মুসলমান নাই। আমরা প্রতিবাদ করা তো দুরের কথা, আরো হুজুর শ্রেণির ওপরেই চড়াও হয়।
আমরা কি করি, সোসিয়াল মিডিয়ায় ক্যামপেইন করি। হুজুরেরা বাংলাদেশে বাড়াবাড়ি করছে। বাংলাদেশ আফগানিস্তান বানাচ্ছে। হুজুরেরা রাজাকার। হুজুরেরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণি। আল্লাহকে অপমান ! তবু কেন সমর্থন পাচ্ছে বাউল সরকার

একবারও খেয়াল করে দেখেছেন। তারা আপনাদের মত, শুধু নামে মুসলমানদের, গালি খাবার পরেও কেন বার বার একই কাজ করে। কারণ তারা নিজেদের জন্য নয় বরং ইসলামের জন্য প্রতিবাদ করে।
আবুল সরকার তার অনুষ্ঠানে দাবি করেন, আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি কি? এই সম্পর্কে তিনি এক এক জায়গায়, এক এক রকম কথা বলেছেন। কখনো তিনি বলেছেন, তার সর্বপ্রথম সৃষ্টি ইস্ক, আবার আর একজায়গায় বলেছেন, তার সর্বপ্রথম সৃষ্টি নুর। আবার আর একজায়গায় বলেছেন, তার সর্বপ্রথম সৃষ্টি রুহু। আবার বলেছেন তার সর্বপ্রথম সৃষ্টি কুরসি।
তাহলে তিনি একমুখে কত কথা বলেন। সাধারণ মানুষ এক মুখে দুই রকম কথা বললে, মানুষ তাকে প্রতারক বা ভন্ড বলেন। তাহলে আল্লাহ তো চার রকম কথা বলছেন। তাহলে তিনি কি? তার মুখ নাকি পুক (পুঙা)। আমার জানতে ইচ্ছে হয়। এমনভাবে আল্লাহ কে বিদ্রুপ করতে থাকেন।

এমনকি আপনি যদি তার কথা বলার টন বা ধরণ খেয়াল করেন। তাহলে স্পষ্ট বুঝতে পারবেন, তিনি আল্লাহ কে নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন। কিন্তু এখন কথা হলো সত্যিই কি আল্লাহ এক মুখে, এমন চার রকম কথা বলেছেন। উত্তর হলো অবশ্যও না।
তাহলে আবুল সরকার কেন এই কথা বললো? আসলে কথায় আছে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। তেমন হয়েছে আবুল সরকারের। তিনি হয়তো একটি হাদিস পড়েছেন,সেখানে এক রকম লেখা আছে। আবার আর একটি হাদিস পড়েছেন, সেখানে আর এক রকম লেখা আছে। সেই দেখেই তিনি জনসম্মুখে আল্লাহ কটুক্তি করতে শুরু করেছেন।
কিন্তু একবারও এই বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধান করেনি। প্রথমে তিনি বলেছেন প্রথম সৃষ্টি ভালোবাসা, রুহ এই দুই কথা কোনো জায়গাতেই নেই। কিন্তু তিনি এদুটি শব্দ বাড়িয়ে বলেছেন। যাতে আল্লাহ নামে কটুক্তি করা ভালো ভাবে হয়। বাকি কুরসি ও নুর এদুটি বলা আছে।
কিন্তু আবুল সরকার যেভাবে উপস্থাপন করেছেন সেভাবে নয়। মুলত তিনি হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর হ্যা বলে রাখা ভালো। হাদিস নানা রকম হয়, যেমন শক্তিশালী হাদিস, দুর্বল হাদিস। কারণ হাদিস অনেকজন অনেক ভাবে লিখেছেন। যেমন বুখারি,তিরমিজি ইত্যাদি। আল্লাহকে অপমান ! তবু কেন সমর্থন পাচ্ছে বাউল সরকার

কিন্তু আল্লাহ সরাসরি কোরআনের কোনো জায়গায় সুনির্দিষ্ট ভাবে আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি উল্লেখ করেননি। আবুল সরকার মুলত দুর্বল হাদিস গুলোর ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। যা মুলত প্রায় শিরক ও কুফরির শামিল। আর যারা এই আবুল সরকারের সাপোর্ট করবেন তারাও মুলত শিরক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত হবেন।কিন্তু আসলেই তারা শিরক করছেন কিনা তা আল্লাহ ভালো জানেন।
এই আবুল সরকারের অনুসারিদের, এই ভন্ডামি প্রতিরোধ করা আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদের প্রাণের দাবি হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের মিডিয়া। তারাও কিন্তু মুসলমান কিন্তু তারা শিরোনাম দিচ্ছে বাউল দের ওপর হামলা করছে তৌহিদি জনতা। বাউল ওপর হামলা করছে হুজুরো।
একবারও বলছে না কি কারণে হামলা করা হলো। শুধু নির্দিষ্টা কিছু চ্যানেল ছাড়া। যেমন বাংলা ইডিশন, একুশে টিভি। মুসলমান হয়ে আল্লাহর নামে কটুক্তি করা বেমালুম লুকিয়ে ফেললো বাংলাদেশের মিডিয়া ।
এমনকি মিডিয়া হুজুরদের প্রতিবাদ সম্প্রচারই করেনি, যদিও সেখানে জনগণ বেশি হয়েছিল। তারা সম্প্রচার করেছে বাউলদের প্রতিবাদ সম্মেলন। এর থেকে ভারতীয়রাই ভালো। তারা যাই করুক না কেন। নিজেদের ধর্মের বিপক্ষে অন্ততপক্ষে যায়না। তারা জীবন দিয়ে তাদের ধর্ম রক্ষা করে। আর আমরা আমাদের ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ বলেও। কাজের বেলায় আমরা কিছুই করিনি।
United Muslim Kingdom – One Ummah, one Vision. আল্লাহকে অপমান ! তবু কেন সমর্থন পাচ্ছে বাউল সরকার





