যুদ্ধ থেমে গেলেও থামেনি ইসরায়েলের দখলদারিতা
যুদ্ধ থেমে গেলেও থামেনি ইসরায়েলের দখলদারিতা
যুদ্ধ থেমে গেলেও থেমে নেই ইজরায়েলের দখলদারিতা। ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ঘরে ঘরে, জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে ইহুদিরা। একজন বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারীকে তার জন্ম ভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দিয়েছে তারা। অঝরে কাঁদছে সেই বৃদ্ধ নারী। চরম অসহায়ত্ব ফুটে ওঠেছে তার চোখে মুখে।
সাথে ফিলিস্তিনিদের চাষকৃত জলপাই গাছ নষ্ট করে দিলো ইহুদিরা। এদিকে মসজিদ আল-আকসা আবারও লঙ্ঘিত! ইহুদিরা পবিত্র এই স্থানে বেরিয়ে যাবার পথে, গান গেয়ে, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে মসজিদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়েছে।
যুদ্ধ বিরতির পরেও, থেমে নেই ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর অত্যাচার। এবার ইহুদিরা নিজেদের প্রচেষ্টায় ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে, যেখানে যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ভুমি দখল, ঘরথেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, লুটপাট, মারধর কিনা করছেনা তারা।

ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জলপাইয়ের বাগানে প্রবেশ করে, জলপাই গাছ গুলো ভেঙে দিচ্ছে ইহুদিরা। উল্লেখিত, এসব জলপাই এর বাগান গুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয়। এখান থেকে এসব জলপাই বিক্রি করে অনেক ফিলিস্তিনি তাদের জীবনযাপন পরিচালনা করে।
কিন্তু ইজরায়েলী ইহুদিরা এসব জলপাই এর বাগান গুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। যাতে ফিলিস্তিনিদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। একটা জাতির ওপর অন্য জাতির কি পরিমাণে ঘৃণা থাকলে, তাদের বাগান গুলো পর্যন্ত এভাবে নষ্ট করতে পারে। তাদের বাগান গুলো নষ্ট করার ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন। শরিরে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে গাছগুলো নষ্ট করার চেষ্টা করছে তারা।
Muslim Newspaper – You Tube চ্যানেলে আপনারা এই ভিডিও দেখতে পারেন।
ইহুদিরা শুধু গাছ নষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা যেখানে যেভাবে পাচ্ছে, সেখানে সেভাবে ফিলিস্তিনিদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা জোরপূর্বক ফিলিস্তিনের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যা খুশি তাই, ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে।

ছিনতাই করা বিভিন্ন ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে। তাদের বিন্দুমাত্র মুসলমানদের ওপর পরয়া নেই। যা ইচ্ছে তাই করছে তারা। এমনকি তারা এক বৃদ্ধকে তার বসতবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দিয়েছে। প্রকাশিত ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে । একজন বৃদ্ধা, যে কিনা হাঁটতে পর্যন্ত পারে না। তাকে চেয়ারে করে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে তারা।
এই ভিডিও টি আমাদের চ্যানেলে দেখতে পারেন।
বৃদ্ধা ঠিকমত কাঁদতে তাই পারছে না। তার বাপদাদার আমল থেকে এই পর্যন্ত তিনি এই বাড়িতেই থেকেছেন কিন্তু এই বৃদ্ধা বয়সে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো। ভাইরাল ভিডিও তে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন। পেছনে একজন পুলিশ অফিসার খুশিতে অন্য একজনের হাতে, হাসতে হাসতে হাত মিলাচ্ছে।
তার দেখে মনে হচ্ছে, সে কি বাহাদুরের কাজ করে ফেলেছে। সেই তৃপ্তির হাসি হাসছে তারা। শুধু এগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। তারা মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান, আল আকসা মসজিদের এলাকায় তাদের ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছে।

১০ ই নভেম্বর, সকাল ও বিকেলে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সুরক্ষায়, ২৩৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সংগঠিত অনুপ্রবেশে মসজিদ আল-আকসাকে অপবিত্র করেছে।
তারা মসজিদ আল-আকসার পশ্চিম দিকে বাব আল-সিলসিলাহ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উচ্ছস্বরে গান গাইছে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান করছে, যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা এসব এলাকায কিভাবে ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এসবের পাশাপাশি, ১,০১০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। তারা পর্যটন এর অজুহাতে মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রবেশ করেছেন এবং ইহুদিবাদী উপস্থিতি স্বাভাবিক করা ও মসজিদ আল-আকসার ইসলামী পরিচয় কেড়ে নেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজ টি ভিডিও আকারে দেখুন Muslim Newspaper







