দিল্লি বিস্ফোরণ: মুসলমানদের দিকে আঙুল!
দিল্লি বিস্ফোরণ: মুসলমানদের দিকে আঙুল! আবারো ভারতে মুসলমানদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেবার অপচেষ্টা চলছে। দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ১০ তারিখ সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০ জন ও আহত হয়েছেন ২৪ জনের অধিক। এ সম্পর্কে আপনারা অনেকেই জানেন। কিন্তু এ ঘটনা ঘটিয়েছে কে বা কারা সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে ভারতের প্রশাসন। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়েগিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার খেলা।
সোসিয়াল মিডিয়া থেকে শুরু করে ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম গুলো গুজব রটানো শুরু করে দিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে, ভারত সর্বপ্রথম পাকিস্তানের ওপর দোষ চাপিয়ে দেবার অপচেষ্টা করে কিন্তু এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি আছে বাংলাদেশের নাম।
ভারতের মিডিয়া গুলো হেডলাইন দিচ্ছে, ভারতে জঙ্গি হামলা। এর পেছনে বাংলাদেশের মুসলিম নাকি পাকিস্তানের মুসলিম, কোন দেশের মুসলিম দায়ি। কিন্তু এবিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হবার আগেই, শেষ তো দুরের কথা শুরু হবার আগেই, ভারতের মিডিয়া মুসলমানদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়াও সোসিয়াল মিডিয়ায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুজব রটানো হচ্ছে। যেখানে দোষ দেওয়া হচ্ছে, দাড়ি, টুপি এমনকি পবিত্র কোরআন শরিফেরও। দিল্লি বিস্ফোরণ: মুসলমানদের দিকে আঙুল!
আপনারা অনেকেই জানেন, দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোস্টেশনের সামনে একটি গাড়িতে ১০ তারিখ সন্ধায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের মাত্র এতটাই ভয়ংকর ছিলো যে, আশেপাশের দোকানপাট পর্যন্ত কেপে উঠে। জনগণ ভয়ে এদিক ওদিক পালাতে শুরু করে। বিস্ফোরণের ফলে পাশে থাকা গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা BBC কে জানান, বিস্ফোরণের পর গাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশেপাশের গাড়িগুলোতে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সাথে এখনো আমাদের তদন্ত টিম কাজ করছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি সংকেতক্ষেত্রে থেমে ছিল। কিন্তু এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আপনাদের জানানো হবে

সাথে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনা স্থলে এসে তারাও, তদন্ত শুরু করেন, এবং এটিকে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কিন্তু তদন্ত শেষ হবার আগেই একটি গোষ্ঠী মুসলমানদের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, এপর্যন্ত ভারতে এমনকি দুনিয়াতে যত জঙ্গি হামলা হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনায় এসব শান্তি কামি ধর্মের মানুষের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তাই তাদের বিশ্বাস এই ঘটনার পেছনেও এই সম্প্রদায়েরই হাত আছে।
যে গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়েছে। সে গাড়িটি আসলে কার বা এর মালিকের নাম কি? এ বিষয়ে ভারতের মিডিয়া বলছে। এই গাড়িটি একজন মুসলমানেমর। তার নাম সালমান। যিনি একজন মুসলমান। কিন্তু একটু খোঁজ নিয়ে যানা যায়, এই গাড়িটি সালমান দেড় বছর আগে দেবেন্দ্র সিং নামে একজন হিন্দু ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।
কিন্তু গোদি মিডিয়া সেই খবর না প্রকাশ করে নিজেদের TRP বাড়ানোর জন্য পুরনো মুসলিম মালিকের নাম প্রচার করছে।দিল্লি বিস্ফোরণ: মুসলমানদের দিকে আঙুল!

সাথে একজন ডক্টরের নাম সামনে আসছে। যার নাম উমর মুহাম্মদ। তিনি মুসলিম হওয়ার তার নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। একটি টুইটার এ্যাকাউন্টে সরাসরি এই হামলার পেছনে উমর মুহাম্মদের নাম উল্লেখ করেছেন। তার পোস্টে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এবার ভারতে অপারেশন সিঁদুর ২ করা হোক।
এই মুসলমান ধর্মের অনুসারীদের ভারত থেকে লাথি দিয়ে, দেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক। এরা যেখানে যায় সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করে। অনেকে তো বলছে এদের কোরআনেই এসব লেখা আছে।দিল্লি বিস্ফোরণ: মুসলমানদের দিকে আঙুল!
এতদিন তো, কোনো সমস্যা হলেও, ভারত, পাকিস্তানের ওপর দোষ চাপিয়ে দিতো কিন্তু এবার তাদের কাছে নতুন বাহানা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশ ওপর দোষ চাপাচ্ছে তারা। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে অনেক পুলিশ মোতায়েন করেছে ভারত।
ভারতের মিডিয়া বলছে, বাংলাদেশ থেকে আশা গাড়ি গুলো চেকিং করছে পুলিশ যাতে, বাংলাদেশ থেকে কোনো বিস্ফোরণ ভারতে প্রবেশ করতে না পারে। এমন ভাবে বলছে তারা, শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে হয়তো বিস্ফোরণের চাষ করা হয়। আর ভারত হলো পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তি প্রিয় জায়গা।

উক্ত ঘটনার পরে ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা হতে পারে। সাথে বাংলাদেশের সিমান্ত বর্তী এলাকায় আক্রমণ হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছে। ইতিমধ্যে ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়ে গেছে।
ঘটনাটি যারাই ঘটাক না কেন? এখনো তদন্ত শেষ হয়নি তাই তদন্ত শেষ হবার আগেই কারো ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া উচিত হবে না।
কিন্তু হ্যা, এ কথাটি কিছুটা ঠিক। বর্তমানে মুসলমানদের অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠি আছে যারা বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হামলা করে। তাদের এই দুর্নামের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কিন্তু ইসলামে জঙ্গিবাদ একদমই নিষিদ্ধ। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করেনা।
কিন্তু হতাশা জনক হলেও সত্য পৃথিবীর অনেক মুসলমান এগুলোকে সঠিক মনে করে। বাংলাদেশেই অনেকের পেয়ে যাবেন যারা এমন জঙ্গি গোষ্ঠী গুলোর সাপোর্ট করে। কিন্তু তারা জঙ্গি হলো কেন, কিভাবে হলো? তারা অস্ত্রই বা কোথায় পায়। এগুলো এখন ওপেন সিক্রেট।
সবাই জানে আমেরিকা বা বিশ্বে যখন, যারা সুপার পাওয়া থাকে তারা এসব কর্মকাণ্ডে সহওতা করে থাকে। মুসলমানদের মধ্যে মুসলমানদের শত্রুতা বাধিয়ে দিয়ে তারা ফাইদা লোটে। কিন্তু আমরা বোকা মুসলমানেরা নিজেদের মধ্যেই বোকার মতন মারামারি শুরু করে দিয়।
যেখানে আজ আমাদের একটি দেশ হবার কথা সেখানে ৫৮ টি দেশে বিভক্ত আমরা। আমরা যদি একসাথে থাকতাম ও আল্লাহর আইন অনুযায়ী দেশ চালাতাম তাহলে অন্য ধর্মের মানুষের সাহস হত না মুসলমানদের নামে গুজব ছড়ানো। আপনারা এবিষয়ে কি বলেন তা অবশ্যও কমেন্ট করে জানান।






